Full width home advertisement

Travel the world

Climb the mountains

Post Page Advertisement [Top]




তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো - ১

ভূমিকা


ছেলেটা একসময় প্রেম এবং সম্পর্কে বিশ্বাস করতো। সে বিয়ে করতে না চাইলেও বিয়ে করার সুযোগ নিজেকে দিয়েছে। কিন্তু ভাগ্য তার সাথে প্রতারণা করেছে এবং এখন সে কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করে না। একসময় যে খুব খুশি, ভাগ্যবান এবং দয়ালু ছিলো, এবং সে হৃদয় ঠান্ডা এবং নির্দয়ে পরিণত হয়েছে। একসময় যে সম্পর্ককে বাস্তব ভাবতো এখন সে ভাবছে সবই টাকা আর ক্ষমতার খেলা। হৃদয়ের গভীরে শীতলতা, নির্মমতা এবং ঘৃণা ছাড়াও সে ভালোবাসার জন্য আকাঙিক্ষত, কিন্তু সে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। সে কি এই ভয়কে জয় করে আবার কাউকে ভালোবাসতে পারবে?

মেয়েটা পুরোপুরি পবিত্র এবং ইনোসেন্ট। ক্রেজি, কিডিস কিন্তু সেই সাথে ম্যাচিওরও। সে মনে করে ভালোবাসাই এমন একটা জিনিস যা সব ধরনের সম্পর্ককে একত্রে আবদ্ধ করে। সে মনে করে প্রেম বা ভালোবাসা যে কোন বেদনা ও দুঃখকে নিরাময় করতে পারে। সে ভাগ্যে বিশ্বাস করে। সে প্রতিটা দিন যেমনভাবে আমাদের সামনে আসে তেমনভাবেই সে বেঁচে থাকতে পছন্দ করে। সে ছেলেটাকে খুব শ্রদ্ধা করে। ছেলেটা তার অনুপ্রেরণা, সে একসময় জানতে পারে যে ছেলেটা একটা শেলের মধ্যে তার হৃদয়কে বন্ধ করে দিয়েছে এবং একদম কোল্ড জীবনযাপন করে। সে তার ব্যথা দূর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে তাকে এইভাবে দেখতে পারে না। কেনো? কি কারণ? এটা কি ভালোবাসা? কেনো সে তার সাথে নিজেকে এত সংযুক্ত বোধ করে? কেনো সে তাকে খুশি করতে চায়?

তবে যেটা দুজনেরই অজানা, তারা বহু বছর আগে তাদের জীবনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে একে অপরের সাথে দেখা করেছে। দুজনেই একে অপরের সেই মুহূর্তের স্মৃতিকে ধরে রেখেছে। ভাগ্য অনেক আগেই তাদেরকে আজীবনের জন্য একটা পবিত্র বন্ধনে যুক্ত করেছিলো। এখন সেটা শুধু তাদের খুঁজে বের করতে হবে।


চরিত্র স্কেচ

অরণ্যক বসু রায়: ২৮ বছর বয়সী লম্বা, ডার্ক এবং হ্যান্ডসাম, ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন পুরুষ, যে অন্য পুরুষদেরকে ঈর্ষান্বিত করে এবং মেয়েরা কেবল তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ভারতের এক নম্বর ফ্যাশন হাউস " এআর ডিজাইনজ" এর মালিক। সে উদ্ধত কিন্তু তার পরিবারের প্রতি যত্নশীল, সে নির্মম কিন্তু কিছু বিরল সময়ে দয়ার কারণে এমন কিছু করে যেটা ওকে নিজেকেই অবাক করে দেয়। একসময় প্রেম এবং সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস রাখলেও অতীতের কিছু খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে এখন সে তার হৃদয়কে গভীর অন্ধকারে বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু তার হৃদয়ের গভীরে সে আকাঙ্খা করে যে, কেউ তাকে অপরিমেয় ভালোবাসুক, কিন্তু সে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। সে মডেলদের সাথে ডেট করে কিন্তু শুধুমাত্র মিডিয়াকে দেখানোর জন্য। কিন্তু "সেই" ঘটনার পর থেকে কখনও সিরিয়াস সম্পর্কের মধ্যে নেই। এখন কেবলমাত্র একজন অ্যাঞ্জেলই তার শক্ত খোল ভেঙে তাকে আবার প্রেমে বিশ্বাসী করতে পারে।

অঞ্জলি বসু রায়: ৩১ বছর বয়সী, অরণ্যকের বড় দিদি, খুব লাভিং। রাহুল সিংহানিয়ার সাথে এনগেজড। তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে এবং তাকে খুশি দেখার জন্য সবকিছু করতে পারে। শিক্ষিতা, স্ট্রং এবং পজিটিভ মেয়ে যে প্রেম, জীবন এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং মনে করে যে জীবনে যা কিছু ঘটে তা সর্বদাই একটা কারণে হয়। সে "সেকেন্ড লাইফ" নামে একটি অনাথালয় চালায়, এবং এই সংস্থা সমস্যাগ্রস্ত এবং দরিদ্র মহিলাদেরও সাহায্য করে।

রাহুল সিংহানিয়া: ৩৫ বছর বয়সী, পেশায় ডাক্তার। অঞ্জলির সঙ্গে এনগেজড। হাসপাতালে তার সাথে দেখা হয়েছিলো, যখন সে তার দাদীকে তার চেকআপের জন্য সেখানে নিয়ে গিয়েছিলো। অবিলম্বে তার পজিটিভ এবং লাভিং প্রকৃতির দ্বারা আকৃষ্ট হয় এবং সময়ের সাথে প্রেম গড়ে ওঠে।

দেবযানী বসু রায়: অরণ্যকের দাদী। একজন সদয় হৃদয়ের অধিকারী সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল এবং স্ট্রিক্ট মহিলা। তার পরিবারকে অনেক ভালোবাসেন। অরণ্যকের জন্য খুবই চিন্তিত এবং সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন

তার পরিবারকে অনেক ভালোবাসেন। অরণ্যকের জন্য খুবই চিন্তিত এবং সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যে অরণ্যক এমন একজনকে যাতে খুঁজে পায় যে তার সমস্ত ত্রুটিগুলোর সাথেই তাকে ভালবাসবে।

অনিরুদ্ধ বসু রায়: অরণ্যকের মামা। যিনি অরণ্যক এবং অঞ্জলিকে তার নিজের সন্তানদের মতোই আদর করেন এবং সর্বদা অরণ্যককে তার বিজনেসে সমর্থন করেন। তিনি "এআর ডিজাইনজ" এর টেক্সটাইল আমদানি রপ্তানি বিভাগ পরিচালনা করেন।

মধুমিতা বসু রায়: অরণ্যকের মামি। মজাদার প্রেমময় ভদ্রমহিলা। অরণ্যক এবং অঞ্জলিকে তার নিজের বাচ্চাদের মতোই ভালবাসেন। কেউ অরণ্যক এবং অঞ্জলিকে তাদের অতীত নিয়ে কটূক্তি করলে তিনি সহ্য করতে পারেন না।

আদিত্য বসু রায়: ২৬ বছর বয়সী হ্যান্ডসাম, নম্র, সরল প্রকৃতির ছেলে। অনিরুদ্ধর ছেলে এবং অরণ্যকের তুতো ভাই, যে অঞ্জলিকে অনেক ভালোবাসে এবং আদর করে। অরণ্যকের প্রতি খুব শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তাকে তার আদর্শ বলে মনে করে। এআর ডিজাইনজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর।

তানিয়া আহুজা : অরণ্যকের প্রথম প্রকৃত মেয়ে বন্ধু, যে পরে তাঁর স্ত্রী হন। (গল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে কীভাবে এবং কখন প্রকাশিত হবে)

আরুশ বসু রায়: অরণ্যকের ১ বছরের ছেলে। (গল্প এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কীভাবে এবং কখন প্রকাশ করা হবে)

ঋতাভরী সেন: ২২ বছর বয়সী অত্যন্ত সুন্দরী মেয়ে। দুধের কোমলতার মতো ত্বক, সবুজ চোখ। মজাদার, প্রেমময়, হাসিখুশি, বাবলি একজন মেয়ে। ইচ্ছাশক্তি প্রবল এবং আত্মবিশ্বাসী কিন্তু মাঝে মাঝে যখনই সে

কারোর মনোযোগ পায় তখন নার্ভাস হয়ে যায়। আধুনিক, আজকালকার মতো মেয়ে কিন্তু ঐতিহ্যবাহীও। প্রেমে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাস করে যে প্রেম যে কোনও ব্যথা এবং দুঃখ নিরাময় করতে পারে। যেখানেই যায় সে তার নামের মতোই আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। ৮ বছর বয়সে তার বাবা-মাকে হারায়। অরুণিমা এবং আবির তাকে দত্তক নিয়েছিলো এবং সে তাদের তার নিজের পিতামাতার মতো ভালবাসে। তার দত্তক পিতামাতা এবং বড় দিদির সাথে মুম্বাইতে থাকে।

সে ৩ মাস আগে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে সে এআর ডিজাইনজ এর মুম্বাই শাখায় সহকারী ইভেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে। সে ডিজাইন করতে খুব ভালোবাসে। তার পরিবারের পাশাপাশি তার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি আরেকটা জিনিস রয়েছে, সেটা হলো একটা লকেট, যেটা ছোট কালো মার্বেল যার উপরে একটা ওম চিহ্ন রয়েছে। সে সর্বদা এটা পরে থাকে। সে অরণ্যককে খুব প্রশংসা করে এবং এখনও অজানা কারণে তার প্রতি একটা শক্তিশালী সংযোগ অনুভব করে।

ঈশিতা সেন: ঋতাভরীর বড় দিদি। ২৬ বছর বয়সী, উচ্চ নৈতিকতা এবং নম্র প্রকৃতির সুন্দরী মেয়ে। ঋতাভরীকে অনেক ভালোবাসে এবং তাকে ভেতর থেকে চেনে। সে কখনই তার কাছ থেকে কিছু গোপন করে না এবং ঋতাভরীও করে না। সে একজন স্কুল শিক্ষিকা কিন্তু তার বাবাকে তার মিষ্টির দোকানেও সাহায্য করে।

আবির সেন এবং অরুণিমা সেন: ঋতাভরীর দত্তক পিতামাতা। আবির একজন সম্মানিত মানুষ। মুম্বাইতে একটা বড় মিষ্টির দোকানের মালিক যার নাম "সেন লখনউই সুইটস"। তার পরিবারকে অনেক ভালোবাসে। অরুণিমা একজন ট্র্যাডিশনাল, সহৃদয় মহিলা। ঋতাভরীর প্রতি একটু কড়া কারণ তার বাবলি আর ক্রেজি স্বভাবের জন্য। তারা একটা মধ্যবিত্ত পরিবার কিন্তু বেশ সেটেলড।

পায়েল খান্না: ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী আধুনিকা এবং উচ্চাকাঙক্ষী মেয়ে। যদিও ঐতিহ্যবাহী নয় কিন্তু সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। অরণ্যকের প্রতি ক্রাশ আছে কিন্তু সে জানে এটা প্রশ্নাতীত, তাই সে বন্ধুত্বের পথ নেয়। সে ডিজাইন বিভাগের হেড এবং এআর ডিজাইনজ এর শুটিং পরিচালনা করে। অঞ্জলির বেস্ট ফ্রেন্ড।

দীপ মাথুর : ২৭ বছর বয়সী, দেখতে সুন্দর, সরল ছেলে। অরণ্যকের ডান হাত, এআর ডিজাইনজ এর জেনারেল ম্যানেজার (এছাড়াও অরণ্যকের আরও কিছু ব্যক্তিগত কাজ করে)। অঞ্জলির পাশাপাশি দীপই একমাত্র ব্যক্তি যাকে অরণ্যক অনেক বিশ্বাস করে এবং যে অরণ্যকের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত কিছু জানে।

নিলয় খুরানা (এনকে): 24 বছর বয়সী, ইয়ং হ্যান্ডসাম ছেলে, এবং মস্তিতে পরিপূর্ণ। ঋতাভরীর বেস্ট ফ্রেন্ড।

এআর ডিজাইনস এর মুম্বাই শাখায় ইভেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে।

(গল্প এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য চরিত্রগুলিও পরিচয় করিয়ে দেবো। কিছু চরিত্র আসবে এবং যাবে।)

সূচনা

১৩ই জানুয়ারী, ২০১৮ (শনিবার)... বর্তমান পরিস্থিতি

ছোটু, তুই কোথায় যাচ্ছিস? অঞ্জলি জিজ্ঞেস করলো, যে অরণ্যককে থ্রীপিস স্যুটে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখলো।

আমি অফিসে যাচ্ছি দি। অরণ্যক বললো।

আমি তোকে মানা করেছিলাম যে আজকের দিনে তুই কোথাও যাবি না। আমি কি তোকে গতকাল বলিনি? - অঞ্জলি এখন তার ভাইয়ের আচরণে বিরক্ত হয়ে বললো।

আর আমি তোমাকে বলেছিলাম আমি থাকতে পারবো না। অরণ্যক আবার বললো। যে এখন বসার ঘরে তার দিদির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

কেনো? থাকতে পারবি না কেনো? কম সে কম আজকের দিনে তো এমন করিস না। ওর তোকে দরকার। - অঞ্জলি দুঃখের সাথে বললো।

অরণ্যক বিরক্ত হয়ে বললো- ওর আমাকে দরকার নেই। ও তোমাকে পেয়েছে, আর তাছাড়া এখানে বাকি সবাই ওর সাথে আছে।

ফর গড শেক, অবশ্যই তোকে তার প্রয়োজন, সে তোর ছেলে। অঞ্জলি রেগে বললো। -

সে আমার ছেলে নয়- অরণ্যকও রেগে বললো।

মুখে বলে দিলেই সত্যি পাল্টে যায় না ছোটু। - কড়া গলায় বললো দাদী। আর এটা তুই খুব ভালো করেই জানিস যে আরুশ তোরই ছেলে।

সে ১ বছরের ছেলেটার দিকে তাকালো, যে তার খেলনা গাড়িটা ধরে দাদীর কোলে বসে রয়েছে এবং তার বাবার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে রয়েছে।

অরণ্যক জানে যে সে তার দাদীকে উত্তর দিতে পারবে না, সে তাকে খুব সম্মান করে। যাই হোক, আমি বারবার এটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। আমরা আগেও বেশ কয়েকবার এটা নিয়ে তর্ক করেছি। এখন যথেষ্ট হয়েছে। - অরণ্যক বললো এবং মুখ ঘুরিয়ে মেইন দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।

কিন্তু অঞ্জলি তার কাঁধে হাত রেখে বললো- আমিও এটাই বলছি ছোটু যে অনেক হয়েছে, ব্যস কর এবার। কতদিন তুই আরুশকে উপেক্ষা করে যাবি। আজকের দিনে তো ওর সাথে সময় কাটাতে পারিস। আজ ওর জন্মদিন।

ওর জন্মদিন কিনা তাতে আমার কিছু যায় আসে না। - অরণ্যক কোন আবেগ ছাড়াই আরুশের দিকে তাকিয়ে বললো। - সে তোমার কাছে আছে। সে তোমার সাথে তার জন্মদিনটা আনন্দের সাথে কাটাবে। তুমি যা চাও সেটাই করো, তুমি তার জন্মদিন উদযাপন করতে চাও, তুমি সেটা উদযাপন করো। আমি এইসবের সাথে কিছু করতে চাই না।

এতোটা ঘৃণা করিস না ছোটু। যা হয়েছে, সেটা তার দোষ নয়, সে নির্দোষ। তোকে অতীত ভুলে এগিয়ে যেতে হবে। - অঞ্জলি তার ভাইয়ের জন্য চিন্তিত হয়ে বললো।

অরণ্যক জানে এই আলোচনা এখন কোন দিকে যাচ্ছে এবং সে এটা চায় না। দি প্লিজ থামো। অরণ্যক রেগে গিয়ে বললো। আগেও অনেকবার বলেছি, এখন আবার বলছি, আমি আর বিয়ে করবো না। সে এবার একটু জোরে বললো। আমার জীবনে কাউকে দরকার নেই, আমি যেমন আছি তেমনই খুশি। এই বলে সে ঘুরে অফিসে চলে গেলো।

আদিত্য যে নীরব দর্শক ছিলো অঞ্জলির দিকে এগিয়ে আসে এবং তার কাঁধ ধরে আদর করে বলে- চিন্তা করো না দি, সে একদিন ঠিক আসবে, ওকে একটু সময় দাও।

ওর আর কত সময় লাগবে? ২ বছর হয়ে গেল। তানিয়া যা করেছে সেটা কেনো সে ভুলতে পারছে না? এবং তার জীবনে এগিয়ে যেতে পারছে না। অঞ্জলি দুঃখিত ও মৃদুস্বরে বললো যাতে দাদী সেটা শুনতে না পায়।

এটা ভুলে যাওয়া সহজ নয়, আমরা সবাই জানি, সে গভীরভাবে আঘাত পেয়েছে, তানিয়া তার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। সময় লাগবে দি। আদিত্য বললো এবং তাকে দাদীর পাশে বসিয়ে দিলো।

অঞ্জলি বোঝে অতীতে যা ঘটেছে সেটাই অরণ্যককে এমন করেছে কিন্তু সে বুঝতে পারেনা কেনো সে অন্যের ভুলের কারণে, তার ছেলের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। সে আরুশকে কোলে তুলে নেয়। সে লক্ষ্য করে যে আরুশের চোখ ভিজে গেছে যেন সে কাঁদছে। যেন সে জানে তার প্রতি তার বাবার ঘৃণা।

অঞ্জলি চোখ মুছতে মুছতে বললো- চিন্তা করো না বেবি, সব ঠিক হয়ে যাবে। ভগবান জলদিই তোমার পরীকে পাঠাবে যে সব ঠিক করে দেবে, ঠিক আছে। বলেই অরুশকে জড়িয়ে ধরে।

*********


একই দিনে .... মুম্বাই  সেন বাড়ি

ঈশিতা রান্নাঘরে দুপুরের খাবারের জন্য লুচি বানানোর জন্য ময়দা মাখছিলো। সে তার পাগল বোনের কথা ভেবে হাসছে, যে সে বোধহয় সব লুচিকে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু সে জানে না যে তার বোন গুটি গুটি পায়ে রান্নাঘরে ঢুকেছে এবং তার ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে আছে, খানিকটা নিচু হয়ে। "ভোওও" - সে চেঁচিয়ে উঠলো।

আআআহহহ!!! - ঈশিতা চিৎকার করে উঠে, এবং সেই সাথে রান্নার টেবিলে, মেঝেতে এবং কাপড়ে কিছু ময়দা ছড়িয়ে পড়ে।

হাহাহাহাহাহাহা... ওর অবস্থা দেখে ওর বোন হাসতে থাকে।

ঈশিতা ঘুরে দেখলো তার বোন পেট চেপে হাসছে। ঋতু কি বাচ্চী... দাঁড়া আমি তোকে মজা দেখাচ্ছি।- এই বলে সে তার দিকে এগিয়ে গেলো কিন্তু ঋতু তো ঋতু, হাসতে হাসতে সে তার রুমের দিকে ছুটে গেল, এবং ঈশিতা তার পিছনে। নিজের দিকে একবার তাকা, তুই কতো দেখো বড়ো হয়ে গেছিস কিন্তু এখনো ছোট বাচ্চার মত আচরণ করিস। - ঋতুর পিছনে দৌড়াতে গিয়ে ঈশিতা বিরক্ত হয়ে বললো।

ঋতু তার রুমে এসে থামলো এবং ঈশিতাকে দেখতে পেলো এবং বললো দিদি, তোমাকে জোকার লাগছে। সে তার হাসি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ঈশিতা ঋতুর কান ধরে টেনে বললো জোকার... তাই না?

আহহা আহহ.. দিদি ব্যথা করছে। ঋতু তার মুখে নকল বেদনার ভাব নিয়ে বললো।

ঋতু তুই কবে এই সব ছেলেমানুষি ত্যাগ করে ম্যাচিওর হতে শুরু করবি? ঋতুর কান ছেড়ে দিয়ে বললো ঈশিতা।

কখনও না। - কান ঘষতে ঘষতে বললো ঋতু।

উফফফ... জানি না তোর কি হবে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল ঈশিতা। মা ইতিমধ্যেই তোর জন্য চিন্তিত, সব সময় তুই দৌড়াচ্ছিস, শিশুসুলভ এবং দুষ্টু কাজ করছিস, তোর বয়সের একজন ম্যাচিওর মেয়ের মতো আচরণ করিস না, এমনকি তুই সেই বেচারা ছেলেটাকেও ভয় দেখিয়েছিস যার পরিবার তোর জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলো। মা মনে করে যে তুই যদি এভাবে চালিয়ে যাস, তাহলে তোকে কেউ বিয়ে করবে না। তোকে আর তোর পাগলামি কে সহ্য করবে?

উফ হো দিদি, তুমি জানো, আমি তোমার আগে বিয়ে করছি না। আর তুমি জানো আমি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে চাই না। যদি করি তাহলে সেটা প্রেমের কারণে হবে। ঋতু তার মুখে স্বপ্নের মত অভিব্যক্তি নিয়ে হাততালি দিচ্ছে। - এবং চিন্তা করো না দেবী মা নিশ্চয়ই আমার জন্য এমন একজনকে তৈরি করেছে যে আমাকে গ্রহণ করবে, আমি যেমন তেমনই। ঋতু ঈশিতাকে চোখ টিপে বললো।

ঈশিতা বললো - আমি জানি তুই কি বলতে চাইছিস। তুই খুব ভালো করেই জানিস সে বিয়ে করতে চায় না এবং সে খুব অভদ্র এবং অহংকারী, তুই নিজেই এটা বলেছিস।

দিদি আমি জানি তুমি কি বলতে চাচ্ছো। বিছানায় বসে ঋতু বললো। তার প্রতি আমি এমন কিছু অনুভব করি, যেটা আমি ব্যাখ্যা করতে পারবো না। অন্য কারোর প্রতি আমি সেটা অনুভব করতে পারবো না।

ঈশিতা কিছু বলতে যাচ্ছিলো এমন সময় ঋতুর ফোন বেজে উঠলো। ঋতু কলার আইডি দেখে মুচকি হেসে সবুজ বোতাম টিপে মোবাইলে বললো আরে এনকে, ওয়াটস আপ ম্যান? পায়েল রুমের বাইরে যেতে শুরু করলো যখন সে শুনতে পেল ঋতুর আক্ষরিক অর্থে চিৎকার "হোয়াট?"। ঈশিতা ঋতুর দিকে ঘুরে তার মুখে বিস্মিত অভিব্যক্তি দেখতে পেলো। সে তার দিকে এগিয়ে গেলো। এক মিনিট পর ঋতু ফোনটা নামিয়ে রেখে যেনো মহাশূন্যে হারিয়ে গেলো।

ঋতু, কি হয়েছে? - ঈশিতা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো। ঋতু উত্তর দিলো না, সে হারিয়ে গেছে। ঈশিতা তার কাঁধ নেড়ে বললো - ঋতু, আমি তোকে জিজ্ঞেস করছি... কি হয়েছে..? নিলয় কি বলেছে? তার কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সে ঋতুর হাতে চিমটি কাটলো।

ওহ্ ড্যাম !! - ঋতু আঁতকে উঠলো। তার হাত ঘষতে ঘষতে বললো - এটা কিসের জন্য?

আচ্ছা তুই আমাকে উত্তর দিচ্ছিলি না, সেই জন্য। এখন বল কি হয়েছে? ঈশিতা বললো।

ঋতু বিছানার কিনারায় বসে এখনও হারিয়ে গেছে এবং বললো দিদি তুমি এটা বিশ্বাস করতে পারবে না। এনকে বললো যে সে এবিআর-এর ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোন পেয়েছে এবং সে তাকে বলেছে যে এবিআর আমার সাথে দেখা করতে চায় (ঋতু তার একটা আঙ্গুল নিজের দিকে নির্দেশ করে)।

হোয়াট? - এবার ঈশিতা আক্ষরিক অর্থেই চিৎকার করে উঠলো।

******

লক্ষ্ণৌ সেন্ট্রাল জেল... রাত্রিবেলা

একজন লোক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে একটা সেলের বারের সামনে থেমে তার মালিককে ডাকে - সাহাব?

এলোমেলো চুল, ছেঁড়া জামাকাপড় এবং লম্বা দাড়িওয়ালা একজন বৃদ্ধ লোক সেই লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে এক ঝলক রয়েছে "অবশেষে" সে ভাবলো এবং উঠে দাঁড়ালো এবং শেলের বারের দিকে এগিয়ে গেলো এবং শেলের একটা বার তার হাতে ধরলো। সে তার মাথার ইশারায় লোকটাকে বলার জন্য ইশারা করলো।

লোকটা বললো - সে দিল্লিতে আছে, সে তার নাম 'মল্লিক' থেকে 'বসু রায়' করেছে। তাই আমরা তাকে তাড়াতাড়ি খুঁজে পাইনি। সে তার দাদী, দিদি এবং তার মামা, মামির সাথে থাকে।

বৃদ্ধ লোকটা বললো ভালো... তার সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ কর, তার সম্পর্কে এবং তার কাছের মানুষদের সম্পর্কে এবং শীঘ্রই এটা কর।

কিন্তু ... - অন্য লোকটা কিছু বলার চেষ্টা করছিলো কিন্তু থামলো।

কি ব্যাপার রঘু? - কড়া গলায় বললো বৃদ্ধ।

আমার সোর্স আমাকে বলেছে যে সে খুবই পাওয়ারফুল লোক, তার কাছে যাওয়া অসম্ভব কারণ তার বাড়ি এবং অফিসের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে। রঘু ইতস্তত করে বললো।

হুমম... - বৃদ্ধ লোকটা বললো। চিন্তা করিস না, আমরা তাকে পেয়ে যাবো। প্রত্যেক মানুষেরই দুর্বলতা আছে। তারও আছে। আমাদের শুধু তাকে ট্রিগার করার জন্য সঠিক জিনিসটা খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামলো এবং তারপর আবার বললো- লালা কোথায়?

রঘু বললো - সে ইতিমধ্যেই দিল্লি চলে গেছে।

বৃদ্ধ লোকটা হেসে বললো- আমার চালাক ছেলে... তাকে বোকা বোকা কিছু করতে না বল এবং আমার জন্য অপেক্ষা করতে বল। আমাদের আগে একটা পরিকল্পনা করতে হবে তারপর আমরা অ্যাটাক করবো।

জি সাহাব। - এই বলে রঘু সেখান থেকে চলে গেলো।

বৃদ্ধ লোকটা ঘুরে তার সহকর্মী সেল সঙ্গীদের দিকে তাকালো যারা ঘুমাচ্ছে এবং নাক ডাকছে। তারপর সে ঠান্ডা মেঝেতে বসলো। ৮ বছর... আমার জীবনের ৮ বছর এই পচা জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমি যেভাবে প্রতিটা দিনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, আমাকে যে অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে তার জন্য তোমাকে মূল্য দিতে হবে। ওহ হ্যাঁ এবং তোমাকে এর জন্য কঠোরভাবে অর্থ প্রদান করতে হবে। সে রেগে ভাবতে লাগলো। আর মাত্র ৩ মাস এবং আমি শীঘ্রই এখান থেকে বেরোবো। আমার সময় শীঘ্রই আসবে অরণ্যক মল্লিক এবং আমি তোমার কাছ থেকে প্রতিটা জিনিস ছিনিয়ে নেবো। এই বলে সে চোখ বন্ধ করলো।

(চলবে)


প্রথমেই জানিয়ে রাখি, এই গল্পে ব্যবহৃত গান আর ছবির কপিরাইট আমার নয়, এগুলো প্রত্যেকটা তার নিজস্ব মালিকের। আমি শুধুমাত্র গল্পের প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করেছি। আবার একটা নতুন গল্প নিয়ে এলাম। আশা করি ভালো লাগবে। তবে একটা কথা বলতে চাই, প্লিজ আপনাদের মতামত জানাবেন এটা আপনাদের কাছে আমার রিকোয়েস্ট। অনেকেই গল্প পড়েন কিন্তু মতামত জানান না, তাই প্লিজ মতামত জানাবেন।

তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো- ১" কে রেটিং প্রদান করুন।

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]